সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে জামালপুর পৌরসভা


লিখেছেন:
পাবলিশ হয়েছে: জানু. ০৪, ২০২১

হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও চলমান থাকায় বদলে গেছে জামালপুর পৌরসভার চিত্র। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার ছোঁয়ায় আধুনিক পৌরসভার দ্বারপ্রান্তে এখন দেড়শ বছরের পুরনো এই পৌরসভা।
দুই বছর আগেও যেসব রাস্তা খানা-খন্দকে ভরা ছিল, সেসব রাস্তা কংক্রিটে নির্মিত হয়েছে। শহরের জলাবদ্ধতা দূর করতে নির্মাণ করা হচ্ছে আরসিসি ড্রেন। এছাড়া সড়কবাতি, সুপেয় পানি সরবরাহে নতুন পাইপ লাইন স্থাপন, ৩টি উৎপাদকমূলক গভীর নলকূপ, ৩টি পাম্প হাউজ, ৩টি সাবমারসিবল পাম্প, ৩টি ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল পাম্পহাউজ ও আধুনিক পানি শোধনাগার নির্মাণসহ গত ৫ বছরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় তিনশ অবকাঠামোগত এবং পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা প্রকল্পের ব্যাপক
উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও চলমান থাকায় বদলে গেছে জামালপুর পৌরসভার চিত্র। এতে বেড়েছে নাগরিক সুবিধা। এই উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে পৌরবাসীর সহায়তা চেয়েছেন জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি।

জামালপুর পৌরসভার তিনবারের নির্বাচিত এই মেয়র জানান, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অনুযায়ী পাঁচ বছরে পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় পৌর নাগরিকদের সেবার মান বেড়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থায়ী কংক্রিটের সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন, পৌরবাসীর সুপেয় পানি সরবরাহে নতুন পাইপ লাইন স্থাপনসহ ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল পাম্পহাউজ স্থাপন, আধুনিক পানি শোধনাগার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকার মসজিদ-মাদ্রাসা সংস্কার ও উন্নয়নসহ যেসব এলাকার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই সেসব এলাকায় নলকূপ স্থাপনের পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে কমিউনিটি ও পাবলিক টয়লেট। করোনা প্রতিরোধেও প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসচেতনমূলক কাজ পরিচালনা এবং মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনাকালীন কর্মহীন ও দুস্থ পরিবারগুলোকে দেওয়া হয়েছে মানবিক সহায়তা।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (এডিপি) ৩ কোটি ৫০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে পৌর গোরস্থানের রাস্তা নির্মাণ, শিশুপার্কের জন্য দোলনা ক্রয়, বৈদ্যুতিক মালামাল ক্রয় ও শহর আলোকিতকরণ কাজ করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে নগর উন্নয়ন অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় প্রায় পৌনে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭টি রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের আওতায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২০০টি তারাপাম্প, ৬টি কমিউনিটি টয়লেট, ৫টি পাবলিক টয়লেট, ২টি গভীর নলকূপ স্থাপন ও ৬১ কিলোমিটার পানির লাইন স্থাপন করা হয়েছে। ৮ শহর ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৯২ কোটি টাকার ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণ সম্পন্ন ও অবশিষ্ট কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ৮ পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫৬টি প্রকল্প চলমান, নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প কুয়েত ফান্ডের মাধ্যমে ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, ৩ পৌরসভার পানি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন পাইপ লাইন স্থাপন, সড়কবাতি দিয়ে শহর আলোকিতকরণ, সুপেয় পানি সরবরাহে নতুন পাইপ লাইন স্থাপন, পরীক্ষামুলক ৩টি গভীর, ৩টি উৎপাদকমুলক গভীর নলকূপ, ৩টি পাম্প হাউজ, ৩টি সাবমারসিবল পাম্প, ৩টি ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল পাম্পহাউজ ও আধুনিক পানি শোধনাগার নির্মাণসহ গত ৫ বছরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় তিনশ অবকাঠামোগত প্রকল্পের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও চলমান থাকায় বদলে গেছে জামালপুর পৌরসভার চিত্র।

মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি আরও বলেন, চলমান কাজগুলো বাস্তবায়ন হলে জামালপুর পৌরসভার কোনও সড়ক ভাঙ্গাচোরা থাকবে না এবং আগামী বর্ষা মৌসুমে শহরে কোনও জলাবদ্ধতা থাকবে না। পৌর নাগরিকসহ বাইরে থেকে আগত মানুষ স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারবে।

তিনি জানান, যদি আবারও সুযোগ পান তবে দেড়শ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী জামালপুর পৌরসভাকে একটি আধুনিক পৌরসভা হিসেবে রূপ দেবেন এবং নাগরিকরা পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা পাবেন।


১ টি মন্তব্য
  1. Avatar
    Nihad Khan জানুয়ারী ৫, ২০২১
    Reply

    চমৎকার 😊

মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল কেউ দেখতে পারবে না!

আরো পড়তে পারেন