কিংবদন্তীতুল্য গীতিকবি নজরুল ইসলাম বাবু’র রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি আজও


লিখেছেন:
পাবলিশ হয়েছে: জুলা ১৭, ২০২১

“সবকটা জানালা খুলে দাওনা,আমি গাইবো বিজয়ের গান, একটি বাংলাদেশ  তুমি জাগ্রত জনতার, আমায় গেঁথে দাও না মাগো” এমন মন ছুঁয়ে যাওয়া গানগুলো লিখে গেছেন নজরুল ইসলাম বাবু।

নজরুল ইসলাম বাবু ১৯৪৯ সালের ১৭ জুলাই জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার চরনগর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিকভিটা একই উপজেলার হেমাড়াবাড়ি গ্রামে। তার পিতা বজলুল কাদের এবং মাতা রেজিয়া বেগম। আজ তার ৭১ তম জন্মদিন।

স্বাধীনতাকামী ২২ বছরের তরুণ নজরুল ইসলাম বাবু ভারত থেকে যুদ্ধের ট্রেনিং নিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য সম্মুখ সমরে লড়েছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরের যুদ্ধের অবসরে তুরার পাহাড়ে লিখেছেন দেশের জন্য গান। কলম ও অস্ত্র দুটোই সমান দক্ষতায় চালাতেন বাবু। এমন মহৎ মানুষকেও কী রাষ্ট্র ভুলে যায়? যদি ভুলে না গিয়ে থাকে তবে কোনো স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও কালজয়ী দেশের গানের স্রষ্টা ও মুক্তিযোদ্ধা বাবুকে রাষ্ট্রীয় কোনো পদকে ভূষিত করা হয়নি?

একুশে ফেব্রুয়ারি, ছাব্বিশে মার্চ, ষোলোই ডিসেম্বরের জাতীয় থেকে স্থানীয় যেকোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানগুলো ছাড়া পূর্ণতা পায় না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য তার মতো কিংবদন্তীতুল্য গীতিকবির কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি আজও। অবিশ্বাস্য বললাম এ জন্য যে, বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করতে চায় না তিনি এখন পর্যন্ত স্বাধীনতা বা একুশে পদকের মতো রাষ্ট্রীয় কোনো পদক পাননি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পড়াশোনা, সাহিত্য ও সঙ্গীতচর্চা শুরু করেন তিনি।১৯৭৩ সালেই তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে গীতিকার হিসেবে তাকিাভুক্ত হন।

নজরুল ইসলাম বাবুর লেখা কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘সবকটা জানালা খুলে দাও না’, ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’, ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো’, ‘দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘ডাকে পাখি খোলো আঁখি’, ‘আমার মনের আকাশে আজ জ্বলে শুকতারা’, ‘কাল সারারাত ছিল স্বপ্নের রাত’ ও ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’ ইত্যাদি।

১৯৭৮ সালে কিংবদন্তি সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সঙ্গে সিনেমায় গান লেখা শুরু করেন নজরুল ইসলাম বাবু। বহু সিনেমায় গান লিখেছেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘মহানায়ক’, ‘প্রতিরোধ’, ‘উসিলা’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘প্রেমের প্রতিদান’ ইত্যাদি।

নজরুল ইসলাম বাবুর গানের সংখ্যা ১১৩টি, এর মধ্যে ৫২টি আধুনিক গান ও ৯টি ধর্মীয় গান রয়েছে।

বাবুর হাতের লেখা গান ||ছবিঃ- সংগৃহীত 

গুণী এই গীতিকবির লেখায় কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সুবীর নন্দী, এন্ড্রো কিশোর, কুমার শানু, আশা ভোষলে, হৈমন্তী শুক্লার মতো বিখ্যাত সব শিল্পীরা।

সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে বাবু || ||ছবিঃ- সংগৃহীত

১৯৮৪ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি শাহীন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের দু’টি কন্যা নাজিয়া ও নাফিয়া।

স্ত্রীর সাথে বাবু ||ছবিঃ- সংগৃহীত

১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন নজরুল ইসলাম বাবু।

জীবিত অবস্থায় পাওয়া পদক ||ছবিঃ- সংগৃহীত

২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় তাকে নিয়ে সংকলিত স্মারক গ্রন্থ নজরুল ইসলাম বাবু স্মারকগ্রন্থ। গ্রন্থটি সংকলন করেছেন আরেক গীতিকার মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান। তাকে সহায়তা করেছেন বাবুর স্ত্রী শাহীন আক্তার, ওবায়দুর বেলাল এবং শাফাত খৈয়ম। সংকলনটিতে তাকে নিয়ে বিশ জনের স্মৃতিচারণ এবং মূল্যায়ন রয়েছে। এছাড়া বাবুর দুর্লভ কিছু আলোকচিত্র এবং পঞ্চাশটি জনপ্রিয় গান যুক্ত করা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম বাবু ১৯৪৯ সালের ১৭ জুলাই জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার চরনগর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিকভিটা একই উপজেলার হেমাড়াবাড়ি গ্রামে। তার পিতা বজলুল কাদের এবং মাতা রেজিয়া বেগম।

১৯৯০ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর পরলোকগমন করেন বাংলা গানের অন্যতম সেরা এই গীতিকবি।


মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল কেউ দেখতে পারবে না!

আরো পড়তে পারেন