ভাষা আন্দোলনে জামালপুর


লিখেছেন:
পাবলিশ হয়েছে: এপ্রি ০১, ২০২০

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনে জামালপুর জেলারও এক ঐতিহ্যমন্ডিত অবদান রেখেছে । ১৯৪৮ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরের স্কুল ছাত্র আব্দুস ছোবহান ” ইয়ে আজাদী ঝুট হ্যায় ” মর্মে এক প্রবন্ধ পাঠ করেন। তাকেঁ স্কুল থেকে টি সি দেয়া হয়। তার ভাই আব্দুস সাত্তারকে গ্রেফতার করে ১ মাসের ডিটেনশন দেয়া হয় । ১৯৫১ সালে জামালপুরে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে “প্রবাহ সাহিত্য মজলিশ” নামে একটি সংগঠন গড়ে উঠে। সৈয়দ ইমামুর রশিদ, আব্দুস সোবহান, আব্দুস সাত্তার, ক্ষিতিশ তালুকদার, অরুন তালুকদার, অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম প্রমূখ এর সাথে জড়িত ছিলেন । ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ নেতা আলী আহমদকে সভাপতি করে আশেক মাহমুদ কলেজে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ।এতে অংশ নেন বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাত আরা, সিংহজানী স্কুলের কাদের, কুদ্দুস, স্টেশন রোডের কুদ্দুস মল্লিক, ছনকান্দার কালু, শাহপুরের সামাদ মন্ডলসহ অনেকে।

১৯৫২ এর ২১ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ডাকা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি বিরাট মিছিল হয়। এর ফলে আখতারুজ্জামান মতি,দিদারুল আলম খুররম, সৈয়দ আব্দুস সোবহান প্রমূখ নেতাদের নামে পুলিশ হুলিয়া জারি করে ।জামালপুর, ইসলামপুর, সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ থানায় ধমর্ঘট আংশিক সফলভাবে পালিত হয়। মেলান্দহে ছাত্রদের উপর পুলিশ নিমর্মভাবে হামলা চালায় । ২২ ফেব্রুয়ারি জামালপুরে শ্লোগান ওঠে ” রক্তের বদলে রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই নূরুল আমীনের কল্লা চাই “। ডাকঘর ছাড়া শহরের সমস্ত অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়। ছেলেরা মিছিল নিয়ে সরকারী হাই স্কুলে (বতর্মান জিলা স্কুল) যাওয়ার পথে পুলিশ ফাড়িঁর অফিসার খুরশিদ জাহান ছাত্রনেতা দিদারুল আলম খুররমকে গ্রেফতার করে। এরপর ঐ রাতে আরও ৮ জন ছাত্রনেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ৭ দিন জামালপুর জেলে রেখে ১ মাসের ডিটেনশন দিয়ে ময়মনসিংহ জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি পিংনা হাইস্কুল মাঠে হাতেম আলী খানের সভাপতিত্বে এর বিরাট সভা হয়। ২৪ শে ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন থানায় সভা হয় এবং শোভাযাত্রা বের হয়। ২৫ তারিখ গোপালদত্তের মাঠ এবং হিন্দু বোর্ডিং মাঠে বিশাল সমাবেশ হয় । ২৭ ফেব্রুয়ারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্যাহ আল মামুনের পিতা এ,এইচ,এম কুদ্দুসের সভাপতিত্তে এক সভায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ঘোষনার দাবী জানান হয়। জামালপুরের থানাগুলোর মধ্যে সরিষাবাড়ী বিশেষ ভূমিকা রাখে । এখানকার হাতেম আলী খান, হরুনর রশীদ তালুকদার, আব্দুস সাত্তার প্রমূখ উজ্জল ভূমিকা রাখেন। এছাড়া জামালপুরের ওস্তাদ ফজলুল হক, মো: আছাদ, আশরাফ ফারুকী, এন, আর জামালী প্রমূখ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।


মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল কেউ দেখতে পারবে না!

আরো পড়তে পারেন